বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ | চৈত্র ১৯, ১৪৩২

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
চৈত্র ১৯, ১৪৩২

রূপপুর ঋণ পরিশোধে সময় বাড়াল রাশিয়া, ১৬ কোটি ডলারের জরিমানা মওকুফ

শাহাদত হোসেন

প্রকাশিত: ২০২৫-০৪-১৭ ১৫:৫৬:৪৪

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ঋণ পরিশোধে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে বাংলাদেশ। প্রকল্পের মূল ঋণ পরিশোধে সময় বাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া, পাশাপাশি পূর্বের জরিমানাও মওকুফ করেছে দেশটি। সংশোধিত চুক্তিতে এসব ছাড়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মূলত ২০২৭ সালের মার্চ থেকে রূপপুর প্রকল্পের মূল ঋণ ও সুদ পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে নানা বাস্তবায়ন জটিলতায় বাংলাদেশ সরকার সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। রাশিয়া দেড় বছর সময় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নতুন সময় নির্ধারণ করেছে।

এছাড়া সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য নেওয়া ৫০ কোটি ডলারের একটি ঋণের কিস্তি যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার জরিমানা নির্ধারিত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আর্থিক লেনদেনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় সময়মতো পরিশোধ সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় জরিমানা সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে রাশিয়া।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ইউরোপ উইংয়ের প্রধান ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের ফলে এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এসেছে। প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও রাশিয়ার সম্মতি রয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা। এর ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে রাশিয়া। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭.৭০ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ, বাকিটা ডিসেম্বরের মধ্যে ছাড় হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রোসাটম স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি করপোরেশন। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটি তদারকি করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

ইআরডি সূত্র জানায়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের কাছে ঋণ শর্তে ছাড় চাওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রোসাটম প্রধান আলেক্সি লিখাচেভের বৈঠকে ঋণচুক্তি সংশোধনের বিষয়ে একমত হয় উভয় পক্ষ।

সংশোধিত প্রটোকল অনুযায়ী, ঋণ পরিশোধে বিলম্বে আর কোনও বিলম্ব মাশুল পরিশোধ করতে হবে না। আগে এক মাস বিলম্ব হলে ৪.৫ শতাংশ হারে জরিমানা গুনতে হতো। এখন সেটাও বাতিল হয়েছে। ইআরডি বলছে, বিলম্বের জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয় বরং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতির কারণেই সমস্যা হয়েছে।

SStv