বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ | বৈশাখ ৩১, ১৪৩৩

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
বৈশাখ ৩১, ১৪৩৩
কিশোরগঞ্জ-৪ আসন

বিএনপি'র নয়, জামায়েত একক প্রার্থী

শাহাদত হোসেন

প্রকাশিত: ২০২৫-০৮-০৫ ১৭:১৩:১৩

 বিশেষ  প্রতিনিধি

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাওর জনপদ অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ নির্বাচনী এলাকা। আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য হিসাবে পরিচিত এই আসনে এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। দলটি প্রকাশ্য রাজনৈতিতে না থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি'র নয় ও জামায়েতের একক প্রার্থীর কথা বেশি শোনা যাচ্ছে।

নির্বাচনী এলাকায় তারা নিয়মিত সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠকের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের সমর্থনে হাওরের গ্রাম ও হাটবাজারে চোখের পরে ব্যানার, পোস্টার, ফেষ্টুন ও দেওয়াল লিখন।

আওয়ামী লীগের দূর্গ খ্যাত এই আসন থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মো. আবদুল হামিদ এবং ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক নির্বাচিত হন।

এছাড়া, ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে ফরহাদ আহমেদ কাঞ্চন ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আবদুল লতিফ ভূঁইয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন, তাঁরা হলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম মোল্লা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ টাস্ট্রের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সুরঞ্জন ঘোষ, ড্যাব নেতা অধ্যাপক ডা. ফেরদৌস আহমেদ লাকী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, সাবেক উপ সচিব জহির উদ্দিন ভূইয়া, কেন্দ্রীয়  ছাত্রদলের সহ সভাপতি মোঃ হাফিজুল্লাহ হিরা, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি প্রকৌশলী মো. নেছার উদ্দিন, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও তিনবারের নির্বাচিত অষ্টগ্রাম সদর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু এবং মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড. জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর  প্রমুখ।

অনলবর্ষী বক্তা এবং বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হওয়ার কারনে এড. ফজলুর রহমান মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন বলে ধরনা করা হচ্ছে। তবে, সম্প্রতি সময়ে ফজলুর রহমানের শেখ মুজিব প্রিতি ও ধর্মীয় রাজনৈতিক বিষয়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জন্য ধর্মভিত্তিক দল ও সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষনীয়।

এড. ফজলুর রহমান ১৯৮৬ কিশোরগঞ্জ-৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। ১৯৯১ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে পরাজিত হন। ২০০১ সালে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন হতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জ-৪ আসন হতে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

এই বিষয়ে এডঃ মো. ফজলুর রহমান জানান, বিগত সরকারের আমলে অনেক জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। '৯৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করলেও আমাকে ষড়যন্ত্র করে হারিয়ে দেওয়া হয়। মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। আশা করি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দিলে ধানের শীষ মার্কায় ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হব।

বিএনপি অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক জেলা প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন,১৯৭৯ সালে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মী ছিলাম আমি। পরে, কর্মজীবনে বিএনপির শীর্ষনেতাদের এলাকায় ইউএনও ও ডিসি হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য, ফ্যাসিষ্ট সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে কোন পদোন্নতি না দিয়ে বাধ্যতামুলক অবসরে পাঠায়। বর্তমান পদোন্নতি ও পদায়ন করলেও আমি তা গ্রহণ করিনি। দলের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগের কারনে আমিই এবার মনোনয়ন পাব বলে আমি বিশ্বাস করি। আমার এলাকার বিশাল ভোট ব্যাংক, দলীয় ও ব্যাক্তিগত ইমেজের কারণে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সুরঞ্জন ঘোষ বলেন, বিগত বিএনপি আমলে তিন উপজেলায় ব্যাপক কাজ করেছি, এই আসনে ৫৫ হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছে, তাদের কে ধানেশীষে টানতে হলে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিবে। ২০১৮সালে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়ে পরে প্রত্যাহার করে। এবার, মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হব নিশ্চিত। 

সাবেক ছাত্রদল নেতা সাবেক অষ্টগ্রাম  উপজেলা বিএনপির আহবায়ক বর্তমান জেলা বিএনপির সদস্য ও তিনবারের নির্বাচিত সদর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, আমি ১৯৯৫ সালে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ভাইয়ের হাত ধরে ছাত্রদলের রাজনীতি শুরুকরে ছিলাম বিভিন্ন লোভনীয় অফার পরবর্তীতে রক্ত চক্ষু  উপেক্ষা করে আওয়ামী দূর্গে বিএনপির রাজনীতি করে যাচ্ছি। ২০১৬ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম ফ্যাসিবাদের অবৈধ হস্তক্ষেপের দরুন ১১ টা বাজে নির্বাচন বয়কট করতে হয়েছিল। আমাদের রাজনৈতিক অবিভাবক চৌকস রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জননেতা জনাব তারেক রহমান তরুণদের প্রাধান্য দিবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

এদিকে, বাংলাদেশ জামায়েতী ইসলামী কিশোরগঞ্জ-৪ দলীয় মনোনয়ন চুরান্ত করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর শাখার আইন বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ মো. রোকন রেজাকে।  নির্বাচন বিষয়ে আপাদত কোন মন্তব্য দেননি। 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনয়ন প্রত্যাশী সুপ্রিমকোর্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট বিল্লাল আহমেদ মজুমদার এবং দলের জেলা শাখার সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মুহাম্মাদ আহসানুল্লাহ।

খেলাফত মজলিসের জেলা অর্থ সম্পাদক মাওলানা অলিউর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী, জেলা উদীচীর সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন খান।

এছাড়াও, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রখ্যাত চক্ষু চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ডাঃ শাহীন রেজা চৌধুরী। তিনি, হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে গরীব অসহায় মানুষের চক্ষু চিকিৎসা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি, বলেন বড় ভাই দানবীর গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী ও চাচা বিপ্লবী আইউব রেজা চৌধুরীসহ আমরা পারিবারিকভাবে মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। 'আলোকিত হাওর' গড়তে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন পূরণে আমি স্বতন্ত্র নির্বাচন করবো। আমার বিশ্বাস অবাদ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এতে আমি বিজয়ী হব।

খেলাফত মজলিস, কিশোরগঞ্জ জেলার অর্থ সম্পাদক মাওলানা অলিউর রহমান বলেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনের জন্য দল আমাক মনোনীত করেছে। আমরা কুরআন-হাদীসের আলোকে সামাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাই।

কিশোরগঞ্জ নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়,  হাওরের তিন উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে গঠিত। এর মোট ভোটার  ৩ লাখ ১০ হাজার ৩৬২ জন। তার মধ্যে অষ্টগ্রাম উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা  ৮৫,৮৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪২,৫৮৩ জন এবং মহিলা ভোটার ৪৩,২৯০ জন।মিঠামইন উপজেলার মোট ভোটার ৭২,২৯২ জন। পুরুষ ৩৬৮৮৯ জন মহিলা ৩৬,৪১৩ জন। ইটনা উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১৫২১৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৮৮৯৮ জন এবং মহিলা ভোটার ৭৩২৯৯ জন। ১জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে।

SStv