রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ভাদ্র ১, ১৪৩৩

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
ভাদ্র ১, ১৪৩৩

কারাগারে আসামির ছবি ফেসবুকে, কারারক্ষী বরখাস্ত

শাহাদত হোসেন

প্রকাশিত: ২০২৪-০৭-০৪ ২২:৪০:৪৯

ডেস্ক রিপোর্ট ::

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা মামলার প্রধান আসামির ছবি তুলে স্বজনদের কাছে পাঠানোর অভিযোগে এক কারারক্ষীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে কলেজছাত্র জামিল হাসান অর্ণব হত্যা মামলার প্রধান আসামির ছবি তোলা হয়। ছবিটি আসামির ভাই ফেসবুকে পোস্ট করেন। ছবিটি তুলে আসামির স্বজনদের কাছে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনায় ওই কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। 

এদিকে হত্যা মামলার আসামির ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আসামির ভাই ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করে অর্ণবের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।   

কারারক্ষীকে বরখাস্ত করার বিষয়টি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কারা আইন ভঙ্গ করার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত মঙ্গলবার কারারক্ষী ইসমাইল হোসেন তুহিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তুহিনের গ্রামের বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলার চাপাতলীতে।’  

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মার্চ কুমিল্লা নগরীর কাছে শাসনগাছা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন একই এলাকার জামিল হাসান অর্ণব (২৬)।

তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের স্নাতক (পাস) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন অর্ণবের মা ঝর্ণা আক্তার। মামলায় একই এলাকার ফজলে রাব্বিকে (৩০) প্রধান আসামি করে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয় ৩০ থেকে ৩৫ জনকে। ঘটনার পরপরই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলিভর্তি পিস্তলসহ ফজলে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা উচ্চ আদালতে জামিন পেলেও রাব্বির জামিন হয়নি। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

ঈদুল আজহার আগের দিন ১৬ জুন কারারক্ষী ইসমাইল হোসেন তুহিন কারাগারের জেলারের বাসভবনের ছাদে দায়িত্ব পালনকালে মোবাইল ফোনে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলে রাব্বির কয়েকটি ছবি ও কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাঠান তার স্বজনদের কাছে। পরে ওই ছবি ও ভিডিও আসামির ভাই এ কে আল-আমিন খান ফেসবুকে পোস্ট করেন। এই ছবিতে ডিজে গানের সঙ্গে লেখা হয়, ‘ভাই, সময় আসবে, ইনশাআল্লাহ।’

এদিকে এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নিহত অর্ণবের পরিবার। গতকাল তার বাবা আজহার উদ্দিন বলেন, ‘এর আগে একবার আদালতে দাঁড়ানো ফজলে রাব্বির ছবি তুলে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। পরে আবার জেলখানার ছবি ফেসবুকে দিয়ে আমাদের ভয় দেখানো হয়েছে। এখন আমরা ছেলে হত্যার বিচার নিয়ে শঙ্কিত।’

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি আমি জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ঘটনায় জড়িত কারারক্ষীকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি কারাগারের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।’

SStv