ডিবি হারুনের বেতনভুক্ত ছিলেন ডিবিসি নিউজের মোহন
ডেস্ক রিপোর্ট::
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ডিবি হারুন অর রশিদের মাসিক বেতনভুক্ত সাংবাদিক ছিলেন ডিবিসি নিউজের রিপোর্টার তরিকুল ইসলাম ওরফে মোহন ইসলাম বলে জানিয়েছে টেলিভিশনটির একাধিক সংবাদকর্মী। হারুন তার অবৈধ অর্থ থেকে মাসোহারা দিতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তার নির্দেশে অনেক অবৈধ এবং নৃশংস কাজকে মিডিয়াতে বৈধতা দিয়েছেন মোহনদের একটি চক্র।
শুধু মোহন একাই নন হারুনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরো কয়েকজন অপ-সাংবাদিকের নাম পাওয়া গেছে। যা রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য প্রমাণ রয়েছে। গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে, প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা আসতো মোহনসহ একাধিক সাংবাদিকের কাছে। তার বিনিময়ে ডিবি হারুনের নিউজগুলি বিভিন্ন চ্যানেলে অনএয়ারের ব্যবস্থা করতেন মোহন।
নয়মাস আগে মোহনকে ডিবিসি নিউজ কর্তৃপক্ষ ডিবি বিট থেকে সরিয়ে দিলেও হারুনের মিডিয়া লিয়াজো কমিটির (টিভি) অন্যতম ছিলেন মোহন। ডিবি অফিসের অনেকে মোহনকে হারুনের কিচেনমেটও বলেও উল্লেখ করেছেন। যা থেকে তাদের দুই জনের সখ্যতা টের পাওয়া যায়। যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটরের পক্ষ থেকে মোহনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি ক্রাইম বিটে কাজ শুরু করি ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে। সেই সময়ে ডিবি, পুলিশসহ মাঠ পর্যায়ের একাধিক প্রতিবেদনে আমি করি। যা সাংবাদিকতার নিয়ম, নীতি মেনে।
হারুনের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিবির হারুনকে কাজের উদ্দেশ্যে চিনি । যে রকম ঢাকার অনেক সাংবাদিক তাকে চেনে। সংবাদ সম্মেলন কাভার করে সংবাদ করেছি। হারুনের ফরমা বলে অভিযোগটি করেছে সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মোহনের বিরুদ্ধে তার একাধিক সহকর্মী এক প্রেজেন্টরের সাথে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জরানোর অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি এতে অফিসে কাজের পরিবেশ নোষ্ট হচ্ছে। তার সহকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বিবাহিত ঐ প্রেজেন্টরের সাথে অফিস এবং অফিসের বাইরেও সে অবাধ মেলামেশা করছেন। যা খুবই দৃষ্টিকুটু।
এই বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করে বলেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সামাজিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য এমন তথ্য ছড়ানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
সিআরআইয়ের ‘লোক’ হিসেবে পরিচিত ডিবিসি নিউজের সম্পাদক জায়েদুল আহসান পিন্টু ঘনিষ্ঠ হওয়ায় মোহনকে নিয়ে কেউ কথা বলতে সাহস দেখায় না। ‘পিন্টু ঘনিষ্ঠ হলে সাত খুন মাফ’ ডিবিসি নিউজে এখন অবস্থা অনেকতাই এমন।
পিন্টুর সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণ কি বা সে সিআরআইয়ের সাথে সম্পৃক্ত কিনা জানতে চাইলে বলেন, cri এর পিন্টুর সাথে আমার কোন ধরনের সম্পর্ক নেই।কিংবা এইটার সদস্য বা সুবিধাভোগী না।আমাকে হয়রানি করার জন্য এমন অভিযোগ।
এসময় তিনি দাবি করেন প্রণব সাহা ও মজুমদার জুয়েল আসলের লোকজন আসলে তাকে হেনস্থা করছেন। এখান থেকে তিনি ডিবিসিতে গ্রুপিংয়েরও ইংগিত দেন।