পূর্বাচল প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক তিন মামলায় অভিযুক্ত শেখ হাসিনা, রেহানা, টিউলিপসহ পরিবারের শীর্ষ সদস্যরা
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
রাজউক থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩০ কাঠা প্লট গ্রহণের পৃথক তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিকসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
রোববার (১৩ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের দেওয়া চার্জশিট আমলে নেন। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
দুদকের আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেলে কি না, এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ এপ্রিল তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।’
এর আগে গত ১০ এপ্রিল রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন একই আদালত।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট নেওয়ার অভিযোগে শেখ রেহানার বিরুদ্ধে গত ১৩ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন। এ মামলায় শেখ হাসিনা, টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়া।
একই প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও মামলা করেন আফনান জান্নাত কেয়া। এই মামলায় শেখ হাসিনা ও টিউলিপসহ ১৬ জন আসামি ছিলেন। তদন্ত শেষে আরও ২ জনসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগে মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। এ মামলাতেও টিউলিপ, শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পৃথক তিন মামলায় শেখ রেহানা, তার ছেলে রাদওয়ান এবং মেয়ে আজমিনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সহযোগী আসামি করা হয়েছে শেখ হাসিনা ও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে।
এ ছাড়া এর আগে দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত শেখ হাসিনা, ছেলে জয়, মেয়ে পুতুল, বোন রেহানা, ভাগ্নে রাদওয়ান ও টিউলিপের নামে থাকা বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমি জব্দের আদেশ দেন। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টে থাকা ১৬ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফ্রিজ করার নির্দেশ দেন আদালত।