রোববার, ৩১ মে ২০২৬ | জ্যৈষ্ঠ ১৭, ১৪৩৩

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
জ্যৈষ্ঠ ১৭, ১৪৩৩

আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভ, জানালেন ভারতীয় সাংবাদিক

শাহাদত হোসেন

প্রকাশিত: ২০২৫-০৪-১৯ ০০:১৫:০১

সম্প্রতি শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থা নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তাঁর শাসনামলের দুর্নীতি, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা।

ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ভারতীয় সাংবাদিক সুচিন্তা পাল চৌধুরী ঢাকায় অবস্থানকালে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশে এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি বুঝেছেন, এখন শুধু বিরোধী পক্ষ নয়, বরং আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীরাও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের উপর ক্ষুব্ধ।

প্রতিবেদনের শুরুতেই লেখক একটি সংবেদনশীল ঘটনার উল্লেখ করেন—“মেয়েটার জন্য কলঙ্কিত হলেন বাবা।” এই লাইনটির মাধ্যমে তিনি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাবমূর্তির সঙ্গে শেখ হাসিনার শাসনের একটি তীব্র তুলনা তুলে ধরেন।

সুচিন্তা পাল তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, নেতৃত্বহীনতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে দেশের মানুষ আতঙ্কিত ও হতাশ। এমনকি তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের সাক্ষাৎকার তুলে ধরে লিখেছেন, আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করেছে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে। অনেক হিন্দু মন্দির ভাঙচুরের পেছনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের মদদ থাকার অভিযোগও উঠে এসেছে।

তবে প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে যে, নতুন অন্তর্বর্তী সরকার এবং সেনাবাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের ফলে কিছুটা হলেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ধর্মীয় উগ্রবাদের প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিক লিখেছেন, “শুধু রাজনীতি টিকিয়ে রাখতেই ধর্মকে অস্ত্র বানিয়েছেন শেখ হাসিনা”—এমন সমালোচনা এখন জনগণের মুখেও। ফলে বর্তমান সরকারের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

এক সময়ের আওয়ামী লীগপন্থী অনেক মানুষ এখন রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। যেমন একজন প্রবীণ নাগরিক গাজী সাহেব বলেন, "আগে রাজনীতিতে ছিলাম, কিন্তু এখন আর বাইরে যাই না।" তাঁর চোখের কোণ চিকচিক করে উঠে—শুধু অতীতের আশা-ভরসার কথা মনে করে নয়, বরং বর্তমানের হতাশা আর ক্ষোভের কারণেও।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

SStv