ধ্বংসস্তূপ গাজায় ফের শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা, নিহত ৩০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ভূখণ্ডটির জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে চালানো ওই হামলায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু। এছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন।
গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল রোববার রাতে গাজা উপত্যকার আটটি শরণার্থী শিবিরের মধ্যে সবচেয়ে বড় একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এ ঘটনায় অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। উত্তর গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের পরিচালক আল-জাজিরাকে বলেন, আমরা ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে ভুগছি।
এদিকে, দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচার বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা। চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একদিকে আরব দুনিয়ার প্রতিবাদ, অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ হলেও তাতে কান দিচ্ছে না নেতানিয়াহুর সরকার।
নানা সমালোচনা ও প্রতিবাদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এই বর্বরতা চালাচ্ছে ইসরাইলি প্রশাসন। রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে গাজা ভূখণ্ডে বোমা হামলার মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসলামিক জিহাদকে নিশ্চিহ্ন করতেই তাদের এ অভিযান চলছে।
কিন্তু তার দাবির সঙ্গে গাজার বাস্তবতার কোনো মিল নেই। কারণ চারদিকে শুধুই ধ্বংসযজ্ঞ আর বাতাসে লাশের গন্ধ। বিমান হামলায় নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশুসহ সাধারণ ফিলিস্তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, চরম মানবিক সংকটের মধ্যেও গাজায় বোমাবর্ষণ তীব্র থেকে আরও তীব্র করেছে ইসরাইলি বাহিনী। নির্বিচার বোমা হামলায় একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০০ নিরীহ ফিলিস্তিনি।
ফিলিস্তিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, রোববারের (২২ অক্টোবর) বোমা হামলার মাত্রা ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, কোনো সতর্কবার্তা না দিয়েই বেসামরিক স্থাপনায় বোমা ফেলা হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই হতাহত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন রকেট হামলা চালায়