কুয়েট শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল, ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবি
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে মশাল মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বার বাংলা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয় এবং প্রধান ফটক সংলগ্ন কুয়েট উড পাদদেশে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল সহকারে শহীদ মিনারে গিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “গতকাল আমাদের কিছু শিক্ষক কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই— আমাদের সংগ্রাম শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নয়, তারা আমাদের পিতৃতুল্য। যদি আমাদের ভুল হয়ে থাকে, আমরা ক্ষমা চাই। কিন্তু আপনাদের কাছে প্রশ্ন, যারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন কোনো মানববন্ধন হয়নি? আমাদের নামে মিথ্যা মামলা হলেও আপনারা পাশে দাঁড়াননি। অথচ আজ আপনারা আমাদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন।”
তারা আরও বলেন, “আপনাদের সঙ্গে বক্তব্য রেখেছেন মো. আতাউর রহমান মোড়ল, যিনি বিএনপির ২০২৪ সালের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের আপ্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন এবং যোগীপোল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য। যেখানে কর্মচারীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ, সেখানে তিনি কীভাবে চাকরি করছেন? আর স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালাল— কার ইন্ধনে আমাদের শিক্ষকদের তাদের পাশে দাঁড় করানো হলো? আমরা এর জবাব চাই।”
শিক্ষার্থীরা দাবি তোলেন, “যে ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তদন্ত কমিটি যদি নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ থাকার কথা বলে, তবে ৫৫ দিনের তদন্তের পর এমন প্রহসনের রিপোর্ট কেন? ছাত্রদলের কেউ ছাড়া নিরীহ কেউ থাকলে কেন সাময়িক বহিষ্কার করা হলো— তার জবাব চাই।”
এ সময় তারা সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, ডি ইউ, সি ইউ, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের আন্দোলন কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, এটা স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম। আমরা বিশ্বাস করি, জুলাই-আগস্টের পর এ দেশে আর কোনো স্বৈরাচার টিকবে না।”
তারা বলেন, “৫৮ দিন পার হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের কোনো সাড়া দেয়নি। আমাদের ওপর রামদা, চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তবুও সরকার নিশ্চুপ। আমরা যেই আসিফ মাহমুদের জন্য রাস্তায় রক্ত দিয়েছি, তিনিও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আজ আমাদের ভাইয়েরা রাস্তায় কুকুরের সঙ্গে শুয়ে রাত কাটাচ্ছে, অথচ সরকার চুপ।”
শেষে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভিসিকে অপসারণ না করা হলে আমরা ধরে নেব সরকার এই স্বৈরাচারকে সেফ গার্ড দিচ্ছে। প্রয়োজনে আমরা আবার জুলাইয়ের মতো রাজপথে নামব।”